ওসমান হাদিকে কারা টার্গেট করেছিল, জানালেন মাসুমা হাদি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

‘কেন আমার কলিজার টুকরো ভাইকে ওসমান গনিকেই টার্গেট করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। ১৭ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি।

কারা টার্গেট করেছে উল্লেখ করে মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‌‌‘কেন আমার কলিজার টুকরো ভাই ওসমান গনিকেই টার্গেট করেছে, দিল্লি, নিষিদ্ধ দল তথাকথিত সুশীল সমাজ, পুরোনো বন্দোবস্ত রাজনীতিবিদরা, দিল্লির সেবাদাসরা।

২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে সাধারণ জনগণ ওসমান হাদিকে যখন চিনতে পেরেছে; তখন আমার সহকর্মী এবং পরিচিত অনেকেই বলতো, আপা ওসমান হাদিকে সাবধানে থাকতে বলবেন। ওসমান হাদি এবং আরও দুটো নাম বলতো যে, এই তিনজন কিন্তু টার্গেটে আছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতাম, আমার ভাই ওসমান গনি ছাড়া আর কেউ টার্গেটে পড়েনি।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দেওয়া, এসি অফিসের মধ্যে বসে টক শো করা, আর আমার ভাই ওসমান গনির বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতি করা এত সহজ না। ওসমান গনি ছাড়া কেউ টার্গেটে নেই।

সত্যি তা-ই হলো, সবাই ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের ওসমান হাদিকে নিয়ে চিন্তিত, ওসমান গনির ছোট আপু ২০২২ সাল থেকে তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওর আধিপত্যবাদ ধারালো লেখা দেখে।

যখন ‘রজঃস্রাবের রাষ্ট্র’ লিখলো আমি ওর নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে গেলাম। আমি বুঝতে পারলাম দিল্লির শকুনের নজরে পড়েছে ওসমান গনি। আমি কীভাবে শকুনের নজর থেকে ওকে বাঁচাবো।

Nagad

সিদ্ধান্ত নিলাম ওকে আর বাংলাদেশে রাখা যাবে না। ভারতের ‘র’ ওকে বাঁচতে দেবে না। তাই ওকে বললাম, ওসমান গনি জিয়ারী শুরু কর। তোকে আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়া চলে যেতে হবে। এখানে তুই নিরাপদ না। ভারত, আওয়ামী লীগ, তোকে বাঁচতে দেবে না।

ওসমান গনি জিয়ারী শুরু করল। ২০২৪ এর ১৮ জুলাই ওর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হলো। কিন্তু আবু সাঈদ শহীদ হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুনি লীগের গুন্ডারা মেয়েদের যেভাবে হেনস্থা করল, ওসমান হাদী তা সহ্য করতে পারেনি। পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে নেমে গেল, দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার জন্য।

তারপর আমি আর বলিনি জিয়ারী পরীক্ষাটা দেওয়ার জন্য। কারণ দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে ওকে দেশের বড় বেশি প্রয়োজন। ওর মতো করে সাংস্কৃতিক লড়াইটা শুরু করলো, দিল্লির মসনদে কাঁপন ধরিয়ে দিলো। পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতিবিদদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেল, ওসমান হাদিকে হত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় তারা খুঁজে পায়নি।

ওসমান হাদি ছাড়া আরও দুটো নাম বলতো, তাদের কিন্তু কিছুই হয়নি, হবেও না। কারণ প্রত্যেকে পর্দার আড়ালে কোনো না কোনোভাবে নেগোসিয়েশন করে চলছে। আমার ওসমান গনির ধারে কাছেও কেউ যেতে পারেনি, পারবেও না কোনোদিন।তাই জীবনটা আমার ওসমান গনিরই গেল। ছোটবেলা থেকে ওসমান গনিকে নিয়ে যত গবেষণা, সব মিলে গেল। শুধু একটাই মিলাতে পারি না যে, ওসমান গনিকে এত তাড়াতাড়ি হত্যা করবে।

আমি বিশ্বাস করতাম, ‘ওসমান গনি’ কম হলেও আরও ০৫ বছর বেঁচে থাকবে। দেশে অনেক মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। কিন্তু ভারতের সেবাদাসরা তা হতে দিলো না। এই খুনের সাথে যারা জড়িত এবং খুনের পরে যারা আমার কলিজার টুকরো ও কোটি কোটি জনতার প্রিয় নেতা ওসমান হাদিকে অস্তিত্বহীন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে; প্রত্যেককে আল্লাহ তাআলা ধ্বংস করে দিক।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ। সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মহানায়ক ওসমান হাদি জিন্দাবাদ।’