Print

সারাদিন

প্রযোজকের মুখে জায়েদ-সায়ন্তিকার ‘হোটেল কাণ্ড’ যা বললেন জায়েদ

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩

সারাদিন ডেস্ক

‘ছায়াবাজ’ চলচ্চিত্রে ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়ক জায়েদ খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন পশ্চিমবঙ্গের নায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপ্তাহখানেক কাজ করার পর আচমকাই মাঝপথে শুটিং ফেলে কলকাতা ফিরে যান এই অভিনেত্রী। শোনা যাচ্ছিল, নৃত্য পরিচালক মাইকেল ও প্রযোজক মনিরুল ইসলামের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ থেকে চলে আসেন অভিনেত্রী।

পরিচালক তাজু কামরুলের নির্মিতব্য এই সিনেমার কাজ শেষ না করেই কলকাতায় ফিরে গেছেন এই অভিনেত্রী। নায়িকার দাবি, নৃত্য পরিচালক মাইকেল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তাকে স্পর্শ করেছে। শোনা গেছে নৃত্য পরিচালককে বদলের দাবিও তুলেছেন সায়ন্তিকা।

পরিচালক জানান, স্পর্শ করার ঘটনা সত্য। কিন্তু এ কারণেই যে নায়িকা ফিরে গেছেন, তা নয়।

এ সবের মধ্যেই ঘটনা বাঁক নিয়েছে নতুন দিকে। সিনেমার প্রযোজক মনিরুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, হোটেল রুমে চার ঘণ্টা কী করেছিলেন জায়েদ-সায়ন্তিকা? তিনি বলেন, ‘নৃত্য পরিচালক মাইকেল বাবুর ডিরেকশনে গানের শুটিংয়ের সময় পোশাক পরিবর্তনের জন্য দুপুর ২টায় হোটেলে যান নায়ক-নায়িকা। কিন্তু ফিরে আসেন সন্ধ্যা ৬টায়। পোশাক বদল করতে চার ঘণ্টা সময় লাগে, এমনটা কখনো দেখিনি। এ ছাড়া আমরা যখন শুটিং প্যাকআপ করে পুরো ইউনিট নিয়ে চলে আসি, সেদিন নায়ক-নায়িকা হোটেলেই থেকে যান। ওইদিন তারা সেখানে কী করছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব তারা কী দেবেন? এ কথাগুলো কখনো সামনে আনতে চাইনি। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।’

শুটিংয়ে অপেশাদারি আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই প্রযোজক বলেন, ‘অপেশাদারি আচরণ আমি নই, সায়ন্তিকা করেছেন। কিভাবে শুটিং হবে, এটা ঠিক করেন পরিচালক। আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল গানের দৃশ্য দিয়ে শুরু হবে শুটিং। চুক্তির বাইরে আমরা তাকে ৫০ হাজার রুপি দিয়েছি পোশাকের জন্য। অথচ তিনি কোনো পোশাক নিয়ে আসেননি। এরপর আবার ড্রেসম্যান মনিরকে দিয়ে পোশাকের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সেই পোশাকগুলোও সায়ন্তিকা ফেরত দিয়ে যাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাইকেলের ডিরেকশনে গানের শুটিং করার সময় ড্রেস পরিবর্তন করার জন্য বেলা ২টায় হোটেলে যান নায়ক-নায়িকা। ফিরে আসেন সন্ধ্যা ৬টায়। ড্রেস চেঞ্জ করতে চার ঘণ্টা সময় লাগে, এমনটি কখনো দেখিনি। এ ছাড়া যেদিন আমরা শুটিং প্যাকআপ করে পুরো ইউনিট নিয়ে চলে আসি, সেদিন নায়ক-নায়িকা হোটেলেই থেকে যান। ওই দিন তারা সেখানে কী করছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব তারা কী দেবেন? এ কথাগুলো কখনো সামনে আনতে চাইনি। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।

Nagad
Nagad

প্রযোজকের কথার উত্তরে জায়েদ খান বলেন, ‘সায়ন্তিকা কলকাতার পত্রিকায় বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে মূল সমস্যাটা কোথায়। এখানে অন্য কোনো ব্যাপার নেই। মাঝখান থেকে কেউ ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আমাকে খারাপ বানানোর চেষ্টা করছে। সায়ন্তিকা কোথায় বলেছে যে মাইকেল কাজ করলে সে কাজ করবে না? হয়তো স্পটে রেগে বলতেও পারেন। অফিসিয়ালি তো কোথাও বলেনি, মাইকেলের সঙ্গেই কাজ শেষ করে সে কলকাতায় গেছে।’

জায়েদ আরও বলেন, ‘কস্টিউমের সমস্যা রয়েছে। লেদারের কিছু ড্রেস প্রয়োজন; যা যা প্রয়োজন সব জানানো হয়েছে প্রযোজককে। পোশাক পরিবর্তন করতে গিয়ে যদি পোশাক না পাওয়া যায় এবং সেটির বিকল্প কী হতে পারে—এসব ঠিক করবে কে? সায়ন্তিকা ডেইলি বেসিসে কাজ করেন। তিনি ব্রেকে যাওয়ার সময় হোটেলে পেমেন্ট পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন; কিন্তু প্রযোজক তা পাঠাননি; দেরি হওয়ার এটাই কারণ। এটাকে ইস্যু করার কিছুই নেই। এটাকে একটি চক্র অন্যদিকে ঘটনার মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার চরিত্র নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলে কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে কয়েকজন, যাদের আমি চিনি।’

জায়েদ আরও বলেন, ‘এসবই ষড়যন্ত্রের অংশ আমি নিশ্চিত, যদি তারা জানতে পারত- সায়ন্তিকা বাংলাদেশে এসে আমার বিপরীতে সিনেমায় কাজ করবে, তাহলে কোনোভাবেই তাকে বাংলাদেশে আসতে দিত না। যেমনটা শ্রাবন্তীর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল।’

সারাদিন. ১৮ সেপ্টেম্বর