প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্, december ১৭, ২০২৩
সারাদিন ডেস্ক
আজ, রোববার (১৭ ডিসেম্বর)আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় । অফিস চলাকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে ইচ্ছুকরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন আজ। আগামীকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) হবে প্রতীক বরাদ্দ। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তপশিল অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল, ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর বাছাই, ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল ও শুনানি, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন ধার্য রয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচারের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল দুই হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন ৭৩১টি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী ছিল এক হাজার ৯৮৫ জন।’ তবে পরে আপিলে অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘৩৫টি আপিল দায়ের হয়েছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে। আর বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছিল ৫২৫টি। সবমিলিয়ে ৫৬০টি আপিল দায়ের হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ছয়দিনে (১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর) আপিল শুনানিতে বাতিল আপিলের বিরুদ্ধে ২৮০টি আপিল আবেদন কমিশন মঞ্জুর করেছে। অর্থাৎ ২৮০ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আর ৩৫টি গ্রহণ আপিল আবেদনের মধ্যে পাঁচটি মঞ্জুর বা পাঁচজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, দুটি আপিল আবেদন খারিজ করা হয়েছে, ২৮টি নামঞ্জুর করা হয়েছে। এই হিসাবে ইসিতে আপিল শুনানি শেষে মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৬০ জন। তবে এটিই চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।’
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে হাইকোর্টে দুটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সেখানে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে।
এদিকে, নির্বাচনে জোটগত অংশগ্রহণ ও আসন সমঝোতার লক্ষ্যে ১৪ দলে শরিক ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আলোচনা চলছে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গেও। কয়েক দফার বৈঠক ও আলোচনা শেষে বেশ কিছু আসনে শরিক ও মিত্রদের ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ৬৬ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণ হবে প্রায় ৪২ হাজার কেন্দ্রে। আসনভিত্তিক ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করেছে ইসি। তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ ও নারী ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮৫২ জন।