প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহন, জুলই ১১, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু শিশুখাদ্য নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু এবং ৪ জন নারী।
শুক্রবার (১১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে শিশুখাদ্য বিতরণের লাইনে সরাসরি বোমাবর্ষণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ১৫ জন এবং আহত হন আরও অন্তত ৩০ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জনই শিশু।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এই হামলাকে “মানবতার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মানুষ যখন বেঁচে থাকার জন্য সাহায্যের লাইনে দাঁড়ায়, তখন তাদের ওপর হামলা চালানো একেবারেই অমানবিক।’ তিনি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং এই হামলার স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন।
এক বিবৃতিতে হামাস এই হামলাকে “গাজায় চলমান গণহত্যার ধারাবাহিক অংশ” বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, ‘ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে স্কুল, রাস্তাঘাট, শরণার্থী শিবির ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। এটি একটি জাতিগত নিধনের সুস্পষ্ট উদাহরণ, যা বিশ্বের চোখের সামনে ঘটছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৭৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন। ক্রমাগত অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকট, এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অনুপস্থিতির কারণে গাজাবাসীরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিত থাকছে।