প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহন, জুলই ১২, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান আগ্রাসনে পরিণত গাজা যেন রক্তাক্ত নরকে পরিণত হয়েছে। একদিকে লাগাতার বোমা ও স্থল হামলা, অন্যদিকে দুর্ভিক্ষ—এই দুই দিক থেকেই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা। এখন ক্ষুধাকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল—এমনই অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ।
গত ছয় সপ্তাহে ত্রাণ নিতে গিয়ে অন্তত ৭৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়। শুক্রবার (১১ জুলাই) জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।
তিনি বলেন, ‘২৭ মে থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাজায় বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে ৭৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রেই নিহত হয়েছেন ৬১৫ জন।’
জিএইচএফ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত একটি ত্রাণ সংস্থা, যা মূলত একটি মার্কিন বেসরকারি নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কোম্পানির সহায়তায় গাজায় খাদ্য বিতরণ করছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, এই সংস্থাটি নিরপেক্ষতা মানছে না এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ত্রাণ কার্যক্রমকে উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের অভিযোগ, ত্রাণ নেওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে মানুষ মারা যাচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা “ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে” এবং সংঘর্ষ এড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেমন—সাইনবোর্ড, বেষ্টনী এবং বিকল্প রুট চালু করা।
অন্যদিকে, জিএইচএফ জাতিসংঘের অভিযোগ ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলে দাবি করে জানায়, মূলত প্রাণঘাতী হামলাগুলোর বেশিরভাগই জাতিসংঘের ত্রাণবহরের আশপাশে হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য—“যদি জাতিসংঘ আমাদের সহযোগিতা করত, সহিংসতা বন্ধ করা বা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। তবে সমাধান একটাই—বেশি বেশি ত্রাণ।’
উল্লেখ্য, ইসরায়েল দাবি করে, জাতিসংঘের মাধ্যমে পাঠানো ত্রাণ হামাসের হাতে পৌঁছায়। যদিও হামাস এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর। প্রাণ বাঁচাতে তারা যেভাবে খাদ্যের জন্য ছুটে যাচ্ছে, সেই পথেই তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে দখলদার বাহিনী।