প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানি সংগ্রহ কেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই শিশু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রোববার (১৩ জুলাই) সারাদিনব্যাপী গাজার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বোমা হামলায় মোট ৯২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৫২ জন।
এই হামলা এমন সময় ঘটলো যখন ইসরায়েল গাজার পুরো জনগোষ্ঠীকে দক্ষিণাঞ্চলে স্থানান্তর করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছে।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, পুরো গাজা জুড়েই তীব্র পানি সংকট বিরাজ করছে। তিনি বলেন,‘নুসেইরাতসহ অনেক এলাকার পানির উৎসগুলো দূষিত, কিন্তু তীব্র তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ বাধ্য হয়ে সেসব জায়গায় পানি আনতে যাচ্ছে। আর সেখানেই হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।’
এর আগের দিন, শনিবার (১২ জুলাই), গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বোমা বর্ষণে আরও অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ এর ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে খাবারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হন।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিক থেকে জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধ ও অবরোধে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৭ জন শিশু।