প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহন, জুলই ১৪, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
বহুল আলোচিত মানিলন্ডারিং মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান লায়ন এম. কে খায়রুল বাশার বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৪ জুলাই) তাকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. জসীম উদ্দিন খান।
তিনি বলেন, ‘বিএসবি গ্লোবালের চেয়ারম্যানকে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম টিম গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।’
গত বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শতাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুমন আলী লস্কর জানান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে বিএসবি গ্লোবাল প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা করে নেয়।
‘তারা অফার লেটার তৈরি করে কিন্তু সেশন ফি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর নিয়ম অনুসরণ না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ভঙ্গ করে মানিলন্ডারিং করেছে। অফার লেটার ছিল ভুয়া, আর টাকা পাঠানো হয়নি,’ বলেন রুমন।
বিএসবি গ্লোবাল কর্তৃপক্ষের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী, এই প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৫০ জনের বেশি হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং মোট আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, তদন্তে দেখা গেছে—দেশীয় ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনেক ভুয়া নথি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।
বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, প্রতারণা এবং মানিলন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সিআইডির পক্ষ থেকে পৃথক মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।