প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। এর ব্যতিক্রম কিছু মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যেদিন থেকে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসে নির্বাচনকাল নির্ধারণ করেছেন, সেই দিন থেকেই সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা বুঝে গেছে, বিএনপি আর কোনো আপসে যাবে না।’
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে দলের সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, যারা আজ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু, যারা দেশের বিরুদ্ধে বলে তারা গণতন্ত্রের শত্রু; তারা এই দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলে। আজ এই শান্তিপূর্ণ র্যালির মধ্য দিয়ে আমরা সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের কোনো আপস নেই। আমি ধিক্কার জানাচ্ছি ওই সমস্ত তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদেরকে যারা তারেক রহমান সম্পর্কে অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বলেছেন।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তাই বলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বলব না এটা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের নেতাকে অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বললে মান ছোট হয় না; ছোট হয় তারা যারা এসব অশ্লীল কথা বলে। আমাদের ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্য নিয়ে ১৫ বছর ধরে আমরা যে লাঞ্ছিত হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি সেই ঐক্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমি সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাব, আসুন গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের নিন্দা
মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই নৃশংস ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেন কারও পাতানো ফাঁদে পা না দেন। সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
ফখরুল বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিজমের উত্থান হতে দেব না। ১৬ বছর ধরে বিএনপি যে ত্যাগ-তিতিক্ষা করেছে, সেটা বৃথা যাবে না। দেশের জনগণই আমাদের শক্তি।’
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। এই দল দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে।’তিনি বলেন, ‘একটি ব্যক্তি ও তার দল বলে, বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই যাবে। আমরা বলি, এই বাংলাদেশই আমাদের স্থায়ী ঠিকানা।’ জামায়াত ইসলাম ও চরমোনাইয়ের পীরের প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যারা বিএনপিকে এখন সহ্য করতে পারে না, তারা আওয়ামী লীগকে ঠিকই সহ্য করতেন। বিএনপি এখন তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু দল সুকৌশলে চাঁদা ও হাদিয়া নিচ্ছে। তাদের আসল চরিত্র জনগণকে বুঝতে হবে।’ আব্বাস বলেন, ‘যত ষড়যন্ত্রই হোক, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপিকে শেষ করে কেউ রাজত্ব করতে পারবে না।’
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্যে লালচাঁদ সোহাগকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। ফকিরেরপুল থেকে শুরু করে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ মোড় পর্যন্ত মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। মিছিলটি বিজয় নগর দিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না প্রমুখ নেতারা ছিলেন।