প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহন, জুলই ১৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৫৯ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রায় ৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয় তাকে। দুদকের উপ-পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া এই আদেশ দেন।
আদালতে উপস্থিত হয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আমার ২৮টি ব্যাংক হিসাব আছে এটা আমি নিজেও জানি না। আমার মাত্র ৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। সব মিলিয়ে ৬-৭ কোটি টাকার সম্পদ আছে। আমাকে অন্ধকারে রেখে মামলা করা হচ্ছে। সত্যের পক্ষে লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘খবরের কাগজে আমি জেনেছি, আমার নামে ২৮টি ব্যাংকে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। অথচ আমি জানি না কীভাবে, কোন অ্যাকাউন্টে এসব অর্থ গেছে।’
মামলার নথিতে দুদক দাবি করেছে, ডা. দীপু মনি ৫ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তার নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম আদালতে বলেন, ‘দুদক সব সময় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই তদন্ত করে। শুধু তার নামে নয়, সংশ্লিষ্টদের নামেও বিপুল অঙ্কের মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।’
আদালতে দাঁড়িয়ে কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘১১ মাস ধরে জেলে আছি, কিন্তু আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মাত্র দুদিন পেয়েছি। আমার আইনগত অধিকারগুলোও হরণ করা হচ্ছে।’
বিচারক পরে মামলার অভিযোগ সংক্রান্ত সব নথিপত্র আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে বলে জানান।