Print

সারাদিন

মিছিল মিছিলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছেন জামায়াত নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্, জুলই ১৯, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ ঘিরে মিছিলের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, মৎস্য ভবন, বাংলামোটরসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দলটির নেতাকর্মীদের জোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টায় শুরু হবে সমাবেশের মূল পর্ব। এতে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাবেশ থেকে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলের আশপাশে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ভোর থেকে জামায়াতের কর্মীদের পদচারণায় ভরে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সকাল ১০টা থেকেই সমাবেশ মঞ্চে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সমাবেশে যোগ দিতে মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক কর্মী আশরাফুল হক বলেন, ‘১৭ বছর পর এত বড় সমাবেশে আসতে পেরে আমি গর্বিত। এ সময়টায় আমাদের সাবেক নেতাদের খুব মিস করছি।’

মিছিলের মধ্যে অনেকে হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন, কেউবা মাথায় পতাকা বেঁধেছেন। এমনকি মেট্রোরেলেও জামায়াত কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Nagad
Nagad

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীতে বড় বড় সমাবেশ করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিভিন্ন ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে। বিএনপি নয়াপল্টনে কয়েক দফা সমাবেশ করলেও জামায়াতে ইসলামী কেবল কারাবন্দি নেতা (বর্তমানে মুক্ত) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পুরানা পল্টন মোড়ে একটি সমাবেশ করেছিল।

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমাবেশের ডাক দিলেও এর অন্তরালে কৌশলগত নানা হিসাব-নিকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সকল গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। তারা ইসলামী দলগুলোকে পাশে চায় এবং ইসলামপন্থি ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করছে। সমাবেশ থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত অবস্থান, বিচার ও সংস্কার প্রশ্নে বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।