প্রকাশিত: ১:২১ অপরাহন, জুলই ১৯, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় এই লেখক। তবে মৃত্যুর এক যুগ পরেও তার সাহিত্যিক অবদান ও সৃষ্ট চরিত্রগুলো মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। লেখালেখির শুরু থেকেই পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। বাংলা কথাসাহিত্যে সংলাপ-ভিত্তিক নতুন ধারার প্রবর্তক হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে এই সাহিত্যিককে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে হুমায়ূনভক্তদের পক্ষ থেকে আলোচনা, পাঠসভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তিন শতাধিক গ্রন্থ রচনাকারী হুমায়ূন আহমেদ ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘বাদশা নামদার’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস লিখেছেন। হিমু, মিসির আলী, শুভ্র ও রুপা—তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’ ও ‘আজ রবিবার’। এসব নাটকের মাধ্যমে তিনি টেলিভিশন নাট্যধারায়ও বিপ্লব ঘটান।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান সফল। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘চন্দ্রকথা’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’—সবগুলোই পেয়েছে দর্শকদের প্রশংসা ও জাতীয় পুরস্কার।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু সম্মাননা।
আজকের এই দিনে পাঠক, ভক্ত এবং দেশবাসী বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা সাহিত্যের এই নন্দিত লেখককে, যিনি তার সৃষ্ট চরিত্র ও কাহিনির মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।