প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহন, জুলই ২৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রসহ সারাদেশে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, গত বছর জুলাই আন্দোলন এবং ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এর আগেই সেগুলো উদ্ধার করা হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসংখ্য ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এতে তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে যেন নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাংবাদিকরা যদি সত্য তুলে ধরেন, বিভ্রান্তি দূর হবে। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে সব তথ্য আসুক। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য মাঠে থাকবে, আর আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রসহ সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র এখনও সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে এগুলো উদ্ধার করা হবে। এ কাজে রাজনৈতিক দলগুলোকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিকে বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো গুজব কিংবা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতে যদি আমাদের নাগরিক থাকে, তাহলে নিয়মের মাধ্যমে পাঠানো উচিত। কিন্তু এখন তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশিয়ে নদীর পাড়ে, জঙ্গলে ফেলে দিচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত এবং তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ঘটনায় একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
পরিদর্শনকালে র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ সদর দফতরও পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।