প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহন, জুলই ২৯, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নৃশংসতার প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, আমার মনে হয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীও এত জঘন্য অপরাধ করেনি।
তিনি বলেন, এত বড় গণহত্যা হয়েছে। বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। একটা দল ১৫টা বছর শুধু মিথ্যার নির্যাতন করে চালিয়েছে। এখনো তাদের মিথ্যাচার বিন্দুমাত্র থামেনি। এখনো নির্যাতনের ইচ্ছা বিন্দুমাত্র থামেনি। আপনারা যখন শেখ হাসিনার অডিও শোনেন, দেখবেন এখনো তার নির্যাতন করার ইচ্ছা পুরোমাত্রায় আছে। এই বিচারের কোনো রকম যদি গাফিলতি থাকে, কোনো রকম ফল্ট থাকে বা যদি নাও থাকে, তারা সেটা এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করবে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জুলাই গণহত্যার বিচার আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্বে বিন্দুমাত্র অবহেলা করি না। এটা শুধু আপনাদের প্রতি দায় নয়, এটা আল্লাহর প্রতি দায়। যারা এরকম হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে না, তাদের বিচার আল্লাহ করবেন।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, যে প্রক্রিয়ায় বিচার এগোচ্ছো ইনশাআল্লাহ বিচার আপনারা পাবেন। এমন একটা ফাউন্ডেশন আমরা রেখে যাবো, অন্য সরকার এসে পরিবর্তন করতে পারবে না। বিচার নিয়ে আমি যেটা ভাবি, এটি আপনাদের প্রতি দায় না, বরং আল্লাহর প্রতি দায়। আমি ধার্মিক মানুষ, সব সময় বলি আল্লাহর কাছে যেন জবাব দিতে পারি। তিনি তো আমাকে দেখছেন। ইনশাআল্লাহ আমি পারবো। আমার পিএইচডি থিসিস নিয়েও এত কাজ করিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই বিচারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।
তিনি শহীদ ইয়ামিনের মৃত্যুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, যখন কেউ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে, তখন তাকে বাঁচানোর পরিবর্তে যারা দেশ চালায়, তারা তাকে পুড়িয়ে মারতে চায়। এটাই প্রমাণ করে আমরা কতটা ভয়াবহ অবস্থায় বাস করছিলাম। তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিচার যদি শুধুই আয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায় বারবার ঘটবে। তাই দেশের জন্য, সত্যিকার পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং কাজ করে যেতে হবে।