প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহন, জুলই ৩১, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত করে না বলে জানিয়েছে সেনাসদর। সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের জীবননাশের হুমকি থাকায় কেবল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেনাবাহিনী মাঠে নামে। এ বিষয়ে কোনো দলীয় পক্ষপাতের প্রশ্নই ওঠে না।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’–তে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কর্নেল শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা কোনো দলের প্রতি আলাদা নজরে দেখি না। দায়িত্ব পালনে আমাদের কাছে সবাই সমান। গোপালগঞ্জে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জানমালের ক্ষতি ঠেকাতেই সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
তিনি আরও জানান, ওখানে শুধু ইট-পাটকেলই নয়, ককটেলও ছোড়া হয়েছিল। যখন প্রাণনাশের হুমকি থাকে, তখন বল প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের সমাবেশে হামলা প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল বলেন, সমাবেশের অনুমতি দেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের বিষয়। আমাদের কাছে এ ধরনের তথ্য ছিল না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে, তখনই আমরা হস্তক্ষেপ করি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই এনসিপির নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জে কর্মসূচিতে গেলে দফায় দফায় হামলার শিকার হন। ওইদিন ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গুলির ঘটনায় যুবলীগ সদস্যসহ চারজন নিহত এবং শতাধিক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজন মারা যান।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ও আরাকান আর্মির সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য এলাকায় প্রোটেকশন দিচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা টেম্পোরারি অপারেটিং বেজ স্থাপন করি।
একজন মেজরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
মাদক ও অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আমরা মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ৫ হাজার ৫৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।