প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্, গাস্ট ৯, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার রাতভর গাজীপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার রবিউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম, স্বাধীন, আল আমিন ও সুমন।
কেটু মিজান ও গোলাপী বেগমকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে, আল আমিনকে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে, স্বাধীনকে হোতাপাড়া এলাকা থেকে, আর সুমনকে চাপাতি ও সুইচ গিয়ারসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
পরে মামলার আরও দুই আসামি—পাবনার পাচবাড়িয়ার বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং কুমিল্লার হোমনার মো. শাহ জালালকে (৩২)—ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনটি পৃথক দল অভিযানে নামে এবং রাতের মধ্যে সাতজনকেই আটক করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
শনিবার সকাল ১১টায় গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার এসপি কে এম এ. মামুন খান চিশতী এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক বাদশা নামে একজনকে কুপিয়ে ধাওয়া করে। এ সময় পাশে থাকা সাংবাদিক তুহিন মোবাইলে ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তুহিনের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন সকালে নিহতের বড় ভাই সেলিম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।