Print

সারাদিন

নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সে সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহন, গাস্ট ২১, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগে গত ১৩ আগস্টের সভায় বিষয়টি আলোচনায় এলেও ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কয়েকজন পরিচালক নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিপক্ষে মত দেন।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদন পাওয়া নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পাচার করা অর্থের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান দিয়ে এসব ব্যাংকের মালিকানা গঠন করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করে এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে এখনো চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত পাঁচটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান— ফিনক্লুশন ভেঞ্চারস, ব্লু হেভেন ভেঞ্চারস, অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স, জেন ফিনটেক ও ট্রুপে টেকনোলজিস। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা ও আর্থিক অবস্থা যাচাই করতে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে চিঠি পাঠালেও এখনো সন্তোষজনক তথ্য মেলেনি।

অন্যদিকে, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান টেকনোহেভেনের সিইও হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম, যিনি সাবেক অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের স্বামী। এই ব্যাংকের মালিকানায়ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চারটি কোম্পানি রয়েছে। তবে তাদের পরিচয় ও আর্থিক অবস্থার সঠিক তথ্য না মেলায় কড়ি এখনো আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিতে পারেনি।

সূত্রগুলো বলছে, ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। পাশাপাশি কিছু প্রচলিত ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়ায় নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে অনেক পরিচালক সতর্ক।

Nagad
Nagad

তবে পরিকল্পনা থেমে নেই। আগ্রহীদের কাছ থেকে শিগগিরই নতুন আবেদন আহ্বান করা হতে পারে। ২০২৩ সালে প্রথমবার আবেদন আহ্বান করলে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৯টি প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে নগদ, কড়ি, স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক ও জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বিকাশ, ডিজি টেন ও ডিজিটাল ব্যাংককে পৃথক লাইসেন্স না দিয়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আবেদন বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আগেরবার রাজনৈতিক বিবেচনায় যেভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও কঠোর মানদণ্ডে নতুন আবেদন যাচাই করা হবে।