প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৫
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের জন্য ক্যারিয়ারের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গড়ে উঠা অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশা নির্বাচন করা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা প্রশ্ন করছেন-কোন পেশা তাদের জন্য নিরাপদ, ভবিষ্যৎনির্ভর এবং উচ্চ আয় নিশ্চিত করতে পারে?
তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাত
বাংলাদেশে আইসিটি খাত দ্রুত বর্ধমান। সরকারি নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কারণে সফটওয়্যার, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও গেম ডেভেলপমেন্ট এখন সেরা পেশার মধ্যে গণ্য।
বেসিস এর সাবেক সভাপতি, আইসিটি বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, তরুণদের উচিত এখনি এআই, ডেটা সায়েন্স ও সাইবার সিকিউরিটি শেখা। এখন যেমন এর চাহিদা রয়েছে, ভবিষ্যতে-ও এই স্কিলের চাহিদা শুধু বাড়বে। কম বয়সেই দক্ষতা অর্জন করলে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য ও মেডিকেল সেক্টর
এরপর তরুণদের কাছে সেরা ক্যারিয়ার হতে পারে, চিকিৎসা, নার্সিং, ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেকনোলজি খাতে। এখাতেও চাকরির চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সিস্টেম, টেলিমেডিসিন ও অনলাইন হেলথ সার্ভিসের প্রসার স্বাস্থ্য খাতকে তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় করেছে।
বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে শুধু ডাক্তারি নয়, গবেষণা, ল্যাব টেকনোলজি, এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনই এই খাতে স্কিল অর্জন করলে ভবিষ্যতে বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।
বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা খাত
স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা খাতও তরুণদের জন্য সম্ভাবনাময়। ফিনটেক, ই-কমার্স, গেমিং, এডটেক ও গ্রীন এনার্জি ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসা গড়ার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরুণরা যদি প্রযুক্তি ও মার্কেট ট্রেন্ডে দক্ষ হয়, তারা দেশের সীমার বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে।
শিক্ষা ও গবেষণা
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রেও কেরিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা প্রজেক্ট ও আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার বিকল্প।
পরামর্শ তরুণদের জন্য
স্কিল-ভিত্তিক শিক্ষা: শুধু ডিগ্রি নয়, নির্দিষ্ট স্কিল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টার্নশিপ ও প্রাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা: শিক্ষা চলাকালীন অভিজ্ঞতা নিন, যা চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
দূরদৃষ্টি: কেবলমাত্র বর্তমান চাহিদা নয়, ৫–১০ বছরের চাহিদা বিবেচনা করে পেশা নির্বাচন করুন।
নেটওয়ার্কিং: ক্ষেত্রভিত্তিক সংযোগ তৈরি করুন, যা ভবিষ্যতে সহায়ক।
তরুণদের জন্য সবখানেই সম্ভাবনা রয়েছে-তবে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে এগোতে হলে দক্ষতা, নতুনত্ব ও ধারাবাহিক শেখার মানসিকতা থাকতে হবে-এমন টাই বলছেন-ক্যারিয়ার খাতে সফল ব্যক্তিবর্গ।