Print

সারাদিন

অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করে ভারতীয় সংসদে বিল পাস

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৩, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

ভারতের সংসদে বহুল আলোচিত অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধকরণ বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে অনলাইন কার্ড গেমস, পোকার ও ফ্যান্টাসি স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মসহ সব ধরনের অর্থভিত্তিক অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করা হলো। খবর আল জাজিরার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন অনলাইন গেমিং কোম্পানি বছরে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার আয় করছিল, যা গড়ে ৪৫ কোটি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

নতুন আইনের কারণে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ক্রিকেট অ্যাপ ড্রিম ১১সহ বিভিন্ন দেশীয় প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ড্রিম ১১ ছিল ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর; ২০২৩ সালের জুলাইয়ে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতেও তাদের লোগো যুক্ত হয়। তবে নতুন আইনের কারণে স্পনসরশিপ টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিত সাইকিয়া বলেন, যদি অনুমোদিত না হয়, আমরা কোনোভাবেই এগোবো না। বোর্ড সবসময় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মেনে চলবে।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান
‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল’-এ বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া গেমস পরিচালনা, প্রচার বা অর্থায়ন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দোষীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বিল পাসের পর এক বিবৃতিতে ড্রিম ১১ জানিয়েছে, তারা সব ধরনের ক্যাশ গেমস ও কনটেস্ট বন্ধ করেছে। তবে ভক্তদের উদ্দেশে জানানো হয়, “সঙ্গে থাকুন, সামনে আরও কিছু আসছে।”

Nagad
Nagad

সরকারের অবস্থান
ভারত সরকার জানিয়েছে, নতুন আইন আসক্তি, আর্থিক ধস ও সামাজিক বিপর্যয় রোধে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এটি ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমকে উৎসাহিত করবে, একইসঙ্গে সমাজকে অনলাইন অর্থভিত্তিক গেমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই আইন অনলাইন সামাজিক ও শিক্ষামূলক গেমের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে জুয়ার গেমগুলোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করছে। এতে ই-স্পোর্টসকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, কিন্তু মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের শোষণকারী গেম নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

যদিও শিল্প সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ ও কর আরোপের দাবি জানাচ্ছিল, সরকার শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণের পথে হেঁটেছে। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এতে অনেক ব্যবহারকারী অবৈধ অফশোর প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকতে পারেন। তবে সমর্থকদের মতে, সামাজিক ক্ষতির তুলনায় এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

সরকার আরও জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার দেশে আর্থিক সংকট, আসক্তি, আত্মহত্যা, প্রতারণা, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।