প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহন, গাস্ট ২৪, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উড়োজাহাজের অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—প্রতিষ্ঠানের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাঈদ আহমেদ (৪০) এবং চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন (৩২)।
এর আগে গত ২ জুলাই পুলিশ সাঈদ আহমেদ, সাদাত হোসেন ও হেড অব ফিন্যান্স সাকিব হোসেন (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে। একইদিন রাতে ভুক্তভোগী গ্রাহক বিপুল সরকার মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়। বাকিরা হলেন—ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রাশিদ শাহ সাঈম ও তার বাবা এম এ রাশিদ।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার প্রতারণা ও আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই ফ্লাইট এক্সপার্টের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন টিকিট বিক্রেতা এজেন্সি ও হাজারো গ্রাহক, যারা অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মালিকপক্ষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ফলে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কোটি কোটি টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০১৭ সালের মার্চে কার্যক্রম শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। তারা দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো সেবা দিত। বিশেষ করে কম খরচে সহজে টিকিট বুকিংয়ের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে সরাসরি এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে টিকিট না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দুটি মধ্যস্থতাকারী এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করত। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুটি এজেন্সি নিজেদের কেনা টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা তুলে নেয়, যার ফলে গ্রাহকের অর্থ আটকে যায়।