Print

সারাদিন

ছয় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ পুলিশ, যা বলছে বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৫, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির সামনে অন্তত ছয়টি বড় চ্যালেঞ্জ এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ছয়টি প্রধান চ্যালেঞ্জ
১. বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, ২. অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, ৩. থানা–ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, ৪. জুলাই অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার, ৫. জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলার তদন্ত শেষ করা, ৬. আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা বলেন, এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হলে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো জরুরি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ সংস্কারসহ আরও যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা উত্তরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে পুলিশ বাহিনী। এজন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একাধিক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত কাজের অগ্রগতি কতটুকু, এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ তথ্য নিচ্ছেন খোদ আইজিপি মহোদয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় সারাদেশে ৫ হাজার ৭৫৩টি অস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজারের বেশি গুলি লুট হয়। এর মধ্যে এখনও উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩৬৩টি অস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি গুলি। নিরাপত্তার জন্য এটিকে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Nagad
Nagad

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্ষমতার পালাবদলের এক বছর পরও দেশের অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটেনি। খুনোখুনি, মব ভায়োলেন্স, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই লেগেই আছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত খুনের ঘটনায় নৃশংসতার মাত্রাও বেড়েছে। গুলি করে হত্যার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে মানুষকে। বেড়েছে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাও। মানুষের মধ্যে কথায় কথায় নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা কমছেই না। থামছে না মব ভায়োলেন্স। অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপারেশন ডেভিল হান্টের পর এখন চলছে ‘চিরুনি অভিযান’। এতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্খিতত মাত্রায় উন্নতি হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

মামলার অগ্রগতি
জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে দায়ের হওয়া ১ হাজার ৭৩০ মামলার মধ্যে ৭৩১টি হত্যা মামলা। এর মধ্যে মাত্র ২৯টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়েছে। অনেক আসামি এখনও পলাতক, অনেকে বিদেশে পালিয়েছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে সদর দপ্তর। সেপ্টেম্বর থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বডিওর্ন ক্যামেরা ও আধুনিক সরঞ্জাম কেনারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের আশা, সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এই বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সূত্র-দৈনিক আমাদের সময়।