প্রকাশিত: ৮:০৯ পূর্বাহ্, গাস্ট ৩১, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, বৈধভাবে বসবাসকারী সব জাতিগোষ্ঠীর। সব জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কীভাবে সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায়। পাহাড়ি-সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা দেয়া হয়েছে।’
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহসহ ১২টি জেলার ৩৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী আমলে হামলা-নির্যাতন উপেক্ষা করেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এখন পলাতক স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সামনে এসেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন নির্বাচনে সবাই সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা করবে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ থেকে ৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করেছিলেন। তখন তিনি বিরিশিরি কালচার একাডেমি প্রতিষ্ঠা, গারো সম্প্রদায়ের জন্য ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ নানা উদ্যোগ নেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দানবীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। এখানে সংখ্যালঘু বলে কিছু থাকবে না-আমরা সবাই সমান।
দেশে চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকাতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকারসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
দেশের ১২ জেলা থেকে গারো, হাজং, বানাই, বর্মণ, কোচ, হদি, ত্রিপুরাসহ ১৮টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।