প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্, গাস্ট ৩১, ২০২৫
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ভোরে কিছুটা স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ওই এলাকার শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রাতে বাসায় প্রবেশকালে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তিনি সহপাঠীকে খবর দেন। এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জনসমাবেশ ঘটায় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পাল্টা হিসেবে শিক্ষার্থীরাও চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হয়ে সংঘর্ষে জড়ান।
সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আরবি বিভাগের ফুয়াদ হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাওন, ইতিহাস বিভাগের তাহসান হাবিব, লোকপ্রশাসন বিভাগের আশরাফ রাতুলসহ অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
চবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, আমাদের নিরাপত্তা টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। তবে শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে থাকায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতিও তখন ছিল না।