প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহন, গাস্ট ৩১, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টরসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিন। এ সময় তিনি আহত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে উপ-উপাচার্য ড. মো. কামাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কমপারেটিভলি ভালো আছি। আমার ছাত্ররা সবচেয়ে বেশি আহত। আমরা এখন পর্যন্ত আর্মি-বিজিবির কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। প্রত্যেকটা ছাত্রকে তারা দা দিয়ে কোপাচ্ছে। এটা কোন জগতে আছি আমরা? আপনারা আমাদের ছাত্রদের উদ্ধার করুন। আমাদের প্রক্টর, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) আহত, আমাদের প্রায় সব শিক্ষক-ছাত্র আহত। আমরা মেডিকেলে জায়গা দিতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা হেলমেট পরে আমাদের ছাত্রদের মারতেছে। আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে কথা বলেছি, কিন্তু এখনো আমাদের পাশে কেউ নেই।
এসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা তোমরা শান্ত হও। এলাকাবাসী আপনারা শান্ত হোন। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বছর ধরে আছি, এই গ্রামের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। অন্য একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। এই গেমে কেউ হাত দিয়েন না।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা শান্ত হও। আমরা তোমাদের পাশে আছি। এ ঘটনার বিচার হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীকে হেনস্তার জেরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরেই রোববার আবার সংঘর্ষ বাধে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করেছে। আজ বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পাসের আশপাশে প্রবেশ করে। এ সময় অন্তত ১০টি গাড়ি অভিযানস্থলে দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী পৌর এলাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে রোববার বিকেল ৩টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এ সময়ে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, অস্ত্র বহন বা পাঁচজনের বেশি লোকের একত্র হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়