প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক আন্দোলন দমন কার্যক্রম নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে মামুন বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরার পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী।
তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমন কার্যক্রম রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়েছিল। এসময় মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত হয়েছিল রাজনৈতিক নির্দেশনায়। এ বিষয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকেই লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশনা আসে বলে তিনি দাবি করেন। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডিবির হারুনকে তিনি ‘অতিউৎসাহী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে মামুন আরও বলেন, র্যাব-১ এ টিআইএফ নামে গোপন বন্দিশালা ছিল। অন্যান্য র্যাব ইউনিটেও এ ধরনের বন্দিশালা থাকত। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারবিরোধী ব্যক্তিদের সেখানে আটক করে নির্যাতন করা হতো। অনেক সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এসব নির্দেশনা আসত, কখনো কখনো তা আসত তারেক সিদ্দিকীর কাছ থেকেও।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আয়নাঘর’ এ আটক ও ক্রসফায়ারের মতো অভিযানের দায়িত্বে থাকতেন র্যাবের এডিসি অপারেশন ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক। পাশাপাশি তিনি পুলিশে তথাকথিত “গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেট” নিয়েও তথ্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামুন। তিনি বলেন, সত্য উন্মোচনের স্বার্থে আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন।