প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তিনি নির্দোষ।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যায়ভাবে অর্ন্তভুক্ত করেছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তারেক রহমান নির্দোষ, এ কারণে তাকে খালাস দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে এটাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রকৃত অর্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চাননি। যদি শেখ হাসিনা প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাইতেন, আইভী রহমান হত্যার বিচার চাইতেন তাহলে জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে তারেক রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করতেন না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আপিল বিভাগের দেওয়া খালাসের রায় পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এর আগে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বহাল রাখেন। একইসঙ্গে নতুন করে তদন্তের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পর্যবেক্ষণও বাদ দেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, নতুন তদন্ত করবে কি না, তা সরকারের এখতিয়ার।
রায়ে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আগের পর্যবেক্ষণ যে মামলাটি নতুনভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা অবলুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত পুনঃনির্ধারণ করেছে যে, নতুন তদন্তের সিদ্ধান্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন।
আদালতে তারেক রহমান ও বাবরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। বিএনপির অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও আরও কয়েকজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।
মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম অনুযায়ী, গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তারেক রহমান ও বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেয়। তখন বলা হয়েছিল, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার ছিল আইনি ভিত্তিহীন। বিচারিক আদালতের চার্জশিট আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১ জুন আপিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের সমাবেশে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের নেত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকশ নেতাকর্মী। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে সব আসামি খালাস পেয়েছেন।
এ রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে, যখন রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়ে গেছে, তখন মামলার মূল উদ্দেশ্য—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—প্রকাশ পেয়েছে।