প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
নেপালজুড়ে টানা বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার সচিব গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ওলির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সংকটের সাংবিধানিক সমাধানের পথ সুগম করতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের বাড়িতে হামলা চালায়। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও ভাঙচুরের শিকার হয়।
সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি জানান, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দু’জন নিহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ৯০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সোমবার পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।
দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অনিয়ম ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা বিক্ষোভ শুরু করে। সোমবার তারা নেপাল পার্লামেন্ট হাউজে প্রবেশ করলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়, এতে প্রাণহানি ঘটে।
সোমবার রাতে বিক্ষোভ দমাতে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। মঙ্গলবার সকালে কৃষিমন্ত্রীও পদ ছাড়েন। তবে তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। বিক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ এক দফা দাবি তুলেছিল—প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিসহ পুরো মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হবে।
অবশেষে জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকটের নতুন অধ্যায় শুরু হলো নেপালে।