প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সে যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইতিহাসে স্থান করে নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিচার হবে সেই সব মানুষের আত্মত্যাগের সম্মাননা, যারা ন্যায়বিচারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। ট্রাইব্যুনাল প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রাষ্ট্র। এটি কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত বার্তা।
সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, বাকি আটজন পলাতক। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ আটজন আসামি পলাতক।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক স্বৈরাচার পালিয়েছে। বাংলাদেশেও শুধু শাসক নয়, তার এমপি, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এমনকি বিচারকরাও পালিয়েছে। এবার সেই অপকর্মের বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
তিনি ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানান, নির্মোহ, নিরপেক্ষ ও দৃঢ় বিচার নিশ্চিত করার জন্য, যাতে জনগণের আস্থা ফিরে আসে এবং ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট বার্তা যায় যে অপরাধী যত বড়ই হোক, তার বিচার হবেই।