Print

সারাদিন

সজিব ওয়াজেদ জয়ের সম্পদ জব্দে যুক্তরাষ্ট্রে এমএলএআর পাঠাচ্ছে দুদক

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দেশটিতে পাঠানো হচ্ছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর)।

দুদকের আবেদনের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালত যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

ভার্জিনিয়ায় বাড়ি
দুদকের নথি অনুযায়ী, জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় দুটি বাড়ি রয়েছে। গ্রেট ফলস এলাকায় একটি বাড়ির মূল্য ২০২৪ সালের ৩ জুন নির্ধারিত হয় ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ ডলার (প্রায় ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা)। অপরটি ফলস চার্চ এলাকায় অবস্থিত, যার মূল্য ২০১৪ সালের ৫ মে ধরা হয় ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ ডলার (প্রায় ৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা)। সব মিলিয়ে দুই বাড়ির বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি।

বিলাসবহুল গাড়ি
তদন্তে উঠে এসেছে, জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত আটটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস (২০১৫)। ম্যাকলারেন ৭২০ এস (২০১৮)। ল্যান্ড রোভার (২০১৬)। লেক্সাস জিএক্স ৪৬০ (২০১৫)। এগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। আদালত ইতোমধ্যে গাড়িগুলো জব্দের অনুমোদন দিয়েছে।

ব্যাংক হিসাব ও কোম্পানি
দুদকের নথি অনুযায়ী, জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১২টি ব্যাংক হিসাব ও ৬টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: গোল্ডেন বেঙ্গল প্রোডাকশন্স এলএলসি, প্রাইম হোল্ডিং এলএলসি, ওয়াজেদ ইন অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স এলএলসি, ব্লু হ্যাভেন ভেঞ্চারস এলএলসি, ট্রুপে টেকনোলজিস এলএলসি।

গত ১৪ আগস্ট জয়কে আসামি করে দুদক ৬০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলা দায়ের করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন এবং হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন।

Nagad
Nagad

দুদকের দাবি, জয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি আয় গোপন, অননুমোদিত বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে প্রমাণ হিসেবে এসব জব্দ করা সম্পদ উপস্থাপন করা হবে।

এই পদক্ষেপ আসে এমন সময়ে, যখন গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। আর তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে আরও সম্পদ জব্দ করা হবে।