Print

সারাদিন

সৌদিতে আটকে থাকা ৩৮ কোটি টাকা ফেরত আনল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহন, অক্টোবর ১৩, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সৌদি আরবে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে আটকে থাকা প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ‘মাসার নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর)-এ বাংলাদেশের ৯৯০টি হজ এজেন্সির অব্যয়িত অর্থ জমা ছিল। সেখান থেকে মোট এক কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬৮ সৌদি রিয়াল ও ৫৭ হালালা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই অর্থ ইতোমধ্যে সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ অফিসের নুসুক প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন থেকে বাংলাদেশ হজ অফিসের সৌদি ফ্রান্সি ব্যাংকে পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ড. খালিদ হোসেন বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরের জমে থাকা অব্যয়িত অর্থ ফেরত আনতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও সদিচ্ছার প্রতিফলন এটি। ভবিষ্যতেও আমরা আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

তিনি জানান, ৯৯০টি এজেন্সির মধ্যে ৮৩১টির ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে—তাদের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। বাকি ১৫৬টি এজেন্সির ব্যাংক তথ্য চাওয়া হয়েছে, তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে তাদেরও অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একটি এজেন্সি সর্বাধিক ৪৫ লাখ টাকা, আর একটি সর্বনিম্ন ২ টাকা ফেরত পাবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি হজযাত্রী বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করে থাকেন। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব এজেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে নুসুক প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দেয়। বর্তমানে সেখানে ১,৩৩৯টি বাংলাদেশি এজেন্সি নিবন্ধিত রয়েছে।

Nagad
Nagad

এ অর্থ হজযাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি এজেন্সিগুলোর বাণিজ্যিক হিসাবের অংশ, হজযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ নয়।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।