Print

সারাদিন

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনে প্রধান উপদেষ্টার ৬ প্রস্তাব

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহন, অক্টোবর ১৩, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনের জন্য বৈশ্বিক খাদ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষুধা কোনো খাদ্য অভাবের কারণে নয়, এটি আমাদের তৈরি অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতা। এই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।

ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (ডব্লিউএফএফ) ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস এই বক্তব্য দেন।

বৈশ্বিক খাদ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের ছয় দফা প্রস্তাবে অধ্যাপক ইউনূস প্রথমেই বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন, সংলাপ শুরু করুন এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন’- এর মাধ্যমে ক্ষুধা ও সংঘাতের দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়নের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক গঠন করে খাদ্য সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখতে হবে।

চতুর্থ প্রস্তাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন, অবকাঠামো ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা দিতে হবে।

Nagad
Nagad

পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাণিজ্যনীতিকে খাদ্য নিরাপত্তার সহায়ক হতে হবে, বাঁধা নয়। ষষ্ঠ প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের তরুণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল, অথচ পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করা হয়েছিল। এটি উৎপাদনের ব্যর্থতা নয়-এটি অর্থনৈতিক এবং নৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। অস্ত্র কেনার জন্য বিশ্ব ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যেখানে ক্ষুধা দূর করতে প্রয়োজনীয় কয়েক বিলিয়ন ডলার জোগাড় হয়নি।

অধ্যাপক ইউনূস সামাজিক ব্যবসার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘পুরোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা পদ্ধতি কোটি কোটি মানুষকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। আমাদের এমন নতুন ব্যবসা পদ্ধতি দরকার, যা ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নয়, বরং সমাজের সমস্যা সমাধানের জন্য।’

তিনি তাঁর ‘তিন-শূন্য বিশ্ব’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি কোনো কল্পনা নয়, এটি বিশ্ব বাঁচানোর একমাত্র পথ। বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক ব্যবসার সাফল্য এই ধারণার বাস্তব প্রমাণ।