প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহন, অক্টোবর ১৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আশপাশের সব পোশাক ও এমব্রয়ডারি কারখানা। দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর বুধবার বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
মঙ্গলবার দুপুরে আনোয়ার ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানা ও পাশের আলম ট্রেডার্স নামের রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় কারখানার আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও গুদামের রাসায়নিক থেকে বের হতে থাকে বিষাক্ত ধোঁয়া। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া শুরু হয় স্থানীয়দের মধ্যে। এ কারণে আশপাশের সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পোশাক কর্মী মৌসুমী, যিনি এক বছর আগে আরএন ফ্যাশনসে যোগ দিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর থেকে তাঁর খোঁজ মেলেনি। স্বজনরা মরদেহ শনাক্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এবং ঘটনাস্থলে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুদামটি তাদের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল। ইতোমধ্যে তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ‘রাসায়নিকের তেজস্ক্রিয়তার কারণে গুদামের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। সম্পূর্ণ নিরাপদ হতে আরও ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।’
এদিকে, গুদাম থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসে মিশে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ‘ডু নট ক্রস’ ফিতা টানিয়ে এলাকা ঘিরে রাখলেও কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন ঘটনাস্থলে।
ঘটনার পর থেকে গুদাম মালিক শাহ আলম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ রাসায়নিক গুদাম পরিচালনা করছিলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নিহত প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের জন্য দুই লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসায় ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।