Print

সারাদিন

সংবিধান সংশোধনে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করলেন লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহন, নভম্বর ১৫, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী পাসের পর নৈতিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শামস মেহমুদ মির্জা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পরিবার সূত্র জানায়, পদত্যাগপত্রে বিচারপতি মির্জা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের পর তিনি ‘নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না’ বলে মনে করেন।

২০১৪ সালে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে লাহোর হাইকোর্টে যোগ দেন শামস মেহমুদ মির্জা। তিনি পাকিস্তানের সাবেক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি জিয়া মুহাম্মদ মির্জার ছেলে।

সংবিধান সংশোধনীর সমালোচনা করে লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বিচারপতি মির্জার পদত্যাগকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে প্রশংসা জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, সর্বশেষ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টকে দুর্বল করেছে, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বার অ্যাসোসিয়েশন অন্য বিচারপতিদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানায় এবং সোমবার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘সংবিধান আর রইল না’ বলে আক্ষেপ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনসুর আলী শাহ ও বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ পদত্যাগ করেন। প্রধান বিচারপতির কাছে তারা ফুল কোর্ট বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যাতে ২৭তম সংশোধনী নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সম্ভব হয়।

রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে বিচারপতি মনসুর আলী শাহ সংশোধনীকে ‘পাকিস্তানের সংবিধানের ওপর গুরুতর আঘাত’ বলেছেন। আর বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ লিখেছেন, “আমি ১১ বছর আগে যে সংবিধানের শপথ নিয়েছিলাম, তা আর নেই।”

Nagad
Nagad

সূত্র: ডন