Print

সারাদিন

শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহন, নভম্বর ২৬, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ রায় প্রকাশের মাধ্যমে আজ থেকেই শুরু হয়েছে আপিল আবেদনের সময় গণনা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে দুই আসামিকে।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে একটিতে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং বাকি দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আইনজীবী ছাড়াও জুলাই–আগস্টের ঘটনার নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন ও মামলার অগ্রগতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলা হয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচারকাজ শুরু করে এবং একই দিনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনও আসামি ছিলেন। মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Nagad
Nagad

অভিযোগ ও সাক্ষ্যগ্রহণ
প্রসিকিউশন তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে। অভিযোগগুলো হলো—উসকানি,মারণাস্ত্র ব্যবহার,আবু সাঈদ হত্যা,চানখারপুলে হত্যা,আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। চলতি বছরের ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং গত ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষ হওয়ার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।

পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।