প্রকাশিত: ৯:০০ পূর্বাহ্, নভম্বর ২৭, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটির তালিকায় বড় লাফ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছে আনুমানিক ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, যার জনসংখ্যা ৪ কোটি ১৯ লাখ। বহু বছর ধরে প্রথম স্থানে থাকা টোকিও এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে; জনসংখ্যা স্থির হয়ে আসায় শহরটির অবস্থান নিচে নেমেছে।
২০০০ সালে জাতিসংঘের মূল্যায়নে ঢাকা ছিল নবম স্থানে। মাত্র দুই দশকে দ্রুত নগরায়ণ, গ্রাম থেকে শহরমুখী জনস্রোত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রীকরণের কারণে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল নগরীতে পরিণত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে—বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যেই ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরে রূপ নিতে পারে।
বিশ্বের মেগাসিটিতে এশিয়ার দাপট
১৯৭৫ সালে বিশ্বে মাত্র আটটি মেগাসিটি ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩টি, যার মধ্যে ১৯টি এশিয়াতে। বিশ্বের শীর্ষ দশ জনবহুল শহরের ৯টিই এশিয়ার।
শীর্ষ দশের তালিকা
জাকার্তা – ৪ কোটি ১৯ লাখ, ঢাকা – ৩ কোটি ৬৬ লাখ, টোকিও – ৩ কোটি ৩৪ লাখ, কায়রো – ৩ কোটি ২০ লাখ (এশিয়ার বাইরে একমাত্র শহর), নয়াদিল্লি – ৩ কোটি ২ লাখ, সাংহাই – ২ কোটি ৯৬ লাখ, গুয়াংঝু – ২ কোটি ৭৬ লাখ, ম্যানিলা – ২ কোটি ৪৭ লাখ, কলকাতা – ২ কোটি ২৫ লাখ, সিউল – ২ কোটি ২৫ লাখ,
জাকার্তা–ঢাকা–টোকিও: পরিবর্তনের কারণ
জাকার্তার উত্থানের পেছনে রয়েছে জাভা দ্বীপে জনঘনত্ব ও শহরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বৃদ্ধি।
ঢাকাতে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত কেন্দ্রায়ন জনসংখ্যাকে ক্রমাগত বাড়াচ্ছে।
টোকিওর জনসংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থির; বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ—যার ফলে তালিকায় পিছিয়ে গেছে।
এশিয়ার বাইরে আমেরিকা মহাদেশে সবচেয়ে জনবহুল শহর সাও পাওলো, যেখানে জনসংখ্যা ১ কোটি ৮৯ লাখ। উপ-সাহারান আফ্রিকার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া নাইজেরিয়ার লাগোস।