প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্, december ১৩, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও অস্তিত্বের ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে এটি অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা। এই হামলার মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের হামলার চেষ্টা আমরা যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করে দেব। জাতির ওপর অপশক্তির এই আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আঘাত যাই আসুক, যত ঝড়-তুফানই আসুক, কোনো শক্তিই আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না। আমরা দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করব।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যে করেই হোক, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও হামলার নেপথ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।
পুলিশ জানায়, হামলাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় আলামত ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিরা যারা সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকতে পারেন, তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থান শনাক্তে যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে।
এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন প্রধান উপদেষ্টা।
জরুরি বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।