প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহন, december ২২, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
ছয় মাসের মাথায় জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আরও এক দফা কমছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন মুনাফার হার নির্ধারণে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এ–সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠানো হবে। এরপর আইআরডি পরিপত্র জারি করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আমার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমতে পারে বলে জানা গেছে। তবে কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা এবং বেশি অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি থাকবে। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কম নির্ধারণ করা হবে।
গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখনই জানানো হয়েছিল, ছয় মাস পর হার আবার পর্যালোচনা করা হবে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর ছয় মাস পূর্ণ হবে।
আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, মুনাফার হার বাড়বে না কমবে—এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। অর্থ বিভাগের সুপারিশ এলে আমরা পরিপত্র জারি করব।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। গত ১ জুলাইয়ের আগে এ হার ১২ শতাংশের বেশি ছিল।
এ ছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিভিন্ন মেয়াদি হিসাবেও বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার চালু রয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
এদিকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থ সরকারি তহবিলে চলে যায়। হার কিছুটা কমলে ব্যাংকে আমানত বাড়বে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।