প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহন, december ২২, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভয় ও বাধাহীন নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকার এমন একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়-যেখানে কোনো ভয় থাকবে না, কোনো বাধা থাকবে না; থাকবে শুধু জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সারাদেশে সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে ১০টি ভোটের গাড়ি যাত্রা শুরু করেছে।
ভিডিও বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, এই সুপার ক্যারাভান কেবল একটি গাড়ি নয়-এটি গণতন্ত্রের বার্তা বহনকারী একটি বহর। এটি মানুষকে জানাবে, একটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং নিষ্ক্রিয়তা নয়, অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
তিনি জানান, এসব গাড়ি দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে, ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে উৎসাহিত করবে।
তরুণ সমাজ, নারী ভোটার ও প্রথমবার ভোটারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা এগিয়ে আসুন। প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোট দিন। আপনার সিদ্ধান্তেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ভোটাধিকার কারও দয়া নয়—এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, নাগরিক হিসেবে আগামী পাঁচ বছর দেশ কে পরিচালনা করবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা জনগণের হাতেই রয়েছে। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে চিন্তাভাবনা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট দেবেন। জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে যারা রয়েছেন, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সুপার ক্যারাভানের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চলুন সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি—নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।