প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহন, december ২২, ২০২৫
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে গেমিং ও খেলাধুলাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো এখন কেবল পণ্যকেন্দ্রিক বিপণনের বাইরে গিয়ে তরুণদের আগ্রহ, সংস্কৃতি ও অংশগ্রহণের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে গেমিং ও ফুটবলকে কেন্দ্র করে একাধিক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স।
চলতি বছরে ইনফিনিক্স ক্যাম্পাসভিত্তিক ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতা পিএমসিসি ২০২৫ বাংলাদেশ আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি তরুণ গেমারদের জন্য একটি সংগঠিত ও প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস পর্যায়ে মোবাইল গেমিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার একটি স্পষ্ট চিত্রও উঠে এসেছে।
গেমিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি গেমিং-কেন্দ্রিক ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করেছে ইনফিনিক্স। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই স্টোরটি কেবল পণ্য বিক্রির জন্য নয়; বরং গেমিং অভিজ্ঞতা, তরুণদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং কমিউনিটি তৈরির জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি গেমিং সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ড সম্পৃক্ততার একটি নতুন ধারা।
গেমিংয়ের পাশাপাশি ইনফিনিক্স বাংলাদেশের নারী জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ফুটবলকে ঘিরে দর্শক ও তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশীদারত্ব নারী ফুটবলের প্রতি তরুণ প্রজন্মের বাড়তে থাকা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেই সংযুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, গেমিং ও খেলাধুলা—এই দুই ক্ষেত্রই তরুণদের মধ্যে দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যাম্পাস পর্যায়ে ই-স্পোর্টসের বিস্তার এবং নারী ফুটবলের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা তরুণদের আগ্রহ ও বিনোদন সংস্কৃতির পরিবর্তনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
গেমিং ও ক্রীড়া—এই দুই ভিন্ন পরিসরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইনফিনিক্সের উদ্যোগগুলো দেখায়, কীভাবে প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো তরুণদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রহের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম যুক্ত করছে। এখানে পণ্যের প্রচারের চেয়ে তরুণদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গেমিং ও খেলাধুলা যেভাবে বাংলাদেশের তরুণ সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে, তাতে সংশ্লিষ্টদের ধারণা—এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে তরুণদের সঙ্গে ব্র্যান্ডগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।