প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্, december ২৪, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ঢাকা-৯ আসনের এমপি প্রার্থী ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। অনুদানদাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এখন শুরু হচ্ছে মূল রাজনৈতিক লড়াই।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তাসনিম জারা।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় তা পূরণ করে ফেলেছেন। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।’
তিনি বলেন, ‘এখন শুরু হচ্ছে আসল লড়াই। এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করবেন। অনেকে বলেন টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়। কিন্তু তারা ভুলে যান—আমাদের সঙ্গে আছেন আপনারা, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের পকেটের পয়সাও খরচ করতে রাজি।’
নির্বাচনি কৌশল তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি দিনে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। পুরো নির্বাচনি প্রচারণায় বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হবে। ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছানো কঠিন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই পেইড কর্মী নিয়োগ দেবো না। মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে হলে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৯ আসনের বাইরের অনেক সমর্থকের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতজন এই এলাকায় থাকেন। একজন পরিচিত মানুষের একটি ফোন কল বা ব্যক্তিগত অনুরোধ অনেক সময় পোস্টার, ব্যানার বা ব্যয়বহুল প্রচারণার চেয়ে বেশি কার্যকর হয়।
স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি দুটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, সপ্তাহে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে টিমের সঙ্গে ঘরে ঘরে প্রচারণায় যুক্ত হওয়া এবং নির্বাচনের দিন পোলিং এজেন্ট বা ভোটার সহায়তাকারী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংগৃহীত অনুদানের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরু থেকেই প্রতিটি টাকার হিসাব স্বচ্ছ রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এজন্য কোনো ক্যাশ ডোনেশন নেওয়া হয়নি। সব অনুদান একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ভবিষ্যতে যাচাইযোগ্য।
তিনি জানান, অনুদানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং হিসাব সংক্রান্ত সব নথিপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হবে, তা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করবো—জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।’