প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহন, december ২৭, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শুধু লোক বদলে দিলেই দেশ বদলে যাবে না, বরং পুরো সিস্টেম বদলাতে হবে। তিনি বলেন, যারা আগুন লাগায় বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, তারা আমাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ। সহিংসতার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা বিশ্বাস ভিন্ন হলেও সহিংসতা কোনো সমাধান হতে পারে না। সংযম, সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে এগোতে হবে।
ডেইলি স্টারে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। কারণ বাতাসের কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। একইভাবে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। সে সময় মূল লক্ষ্য ছিল আগুনের ঘটনায় আটকে পড়া ২৮ জন সাংবাদিক ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা।
তিনি জানান, প্রথম দফায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দ্বিতীয় দফার আগুনে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরে ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে ছাদ থেকে তাদের নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, আমি নির্লিপ্ত বলব না। তবে প্রো-অ্যাকটিভ না হওয়ায় গণমাধ্যমের যে ক্ষতি হয়েছে তেমনি আমাদেরও ক্ষতি কম হয়নি। সরকার হিসেবেও আমরা এই ক্ষতিটা উপলব্ধি করি। এ ঘটনাই আমরা সত্যিই মর্মাহত। এটা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল।
উপদেষ্টা বলেন, যারা এই আগুন দিয়েছে তারা আমাদের কমন প্রতিপক্ষ। আপনার যদি কারো মত পছন্দ না হয় তাহলে আপনি ভিন্ন মতের কোনো পত্রিকা খোলেন। সেটাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। কিন্তু সেটা না করে একটি প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দিলেন আর মনে করলেন আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে এমন করলে তো হবে না। জুলাইতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও নিউ এজ কিন্তু আন্দোলনের খবর ছাপাচ্ছিল। টেলিভিশনের দিকে তাকালে আমরা চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এবং যমুনাকে দেখতে পাই।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট, সেল্ফ ক্রিটিসিজমটা করতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুব জরুরি। যেদিন থেকে দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকেই দেখেছি প্রতিটি মানুষের একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি বা জামায়াত। এ এক অদ্ভুত অবস্থা। অনেক সময় দেখা যায় কারো রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও প্রতিপক্ষ তাকে ঘায়েল করতে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দেয়। আমাদের যদি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হয় তাহলে সবার একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও পেশাগত দায়িত্বে এসে সেই মতাদর্শের প্রতিফলন করা যাবে না। আমরা যদি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ চাই তাহলে গণতন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো সুযোগ দেখি না। যারাই আমাদের ভয় দেখাচ্ছে তারা আমাদের কমন প্রতিপক্ষ। আমার বাসার সামনেও ককটেল ফোটানো হয়েছে। এই কমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের পেশাদারত্বের ক্ষেত্রে কোনো আপস থাকবে না। একজন আরেকজনকে প্রতিপক্ষ মনে করলে কোনো কাজ হবে না।
উপদেষ্টা আরও বলেন, পুরোটা ভেঙে যাওয়া একটা সিস্টেমকে দিয়ে আমরা প্রশাসন চালাচ্ছি। এই সরকারকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটা বড়ো ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। এ যাত্রায় আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না।