Print

সারাদিন

কানাডিয়-বাঙালি শিল্পীর একক প্রদর্শনী ঢাকায়

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহন, december ২৭, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয় শিল্পী জিসান হকের একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘ইনভাইটেশন টু লাইফ’ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়।

সন্ধ্যায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক ও খ্যাতিমান শিল্পী সৈয়দ আবুল বার্‌ক্‌ আলভি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান নকশাকার শিল্পী আবদুল মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রশিদ আমিন এবং শিল্পীর পরিবারের সদস্যরা।

শৈশবেই বাবার অনুকরণে আঁকিবুঁকির মাধ্যমে শিল্পচর্চার হাতেখড়ি জিসান হকের। তার বাবা আবু জাফর জিয়াউল হক ছিলেন সৃজনশীল মানুষ। ১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হয়ে পরে কানাডায় স্থায়ী হন তিনি। বিদেশে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ, বিয়ে ও সংসারজীবনের পাশাপাশি নিয়মিত চালিয়ে গেছেন শিল্পচর্চা। বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম একক প্রদর্শনী। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ও কানাডার টরোন্টোতেও একক প্রদর্শনী করেছেন তিনি। বাংলাদেশে এটি তার তৃতীয় একক প্রদর্শনী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রশিদ আমিন বলেন, ‘কানাডায় কী ধরনের শিল্পচর্চা হচ্ছে, মানুষ কী দেখছে ও পছন্দ করছে—তা জিসান সরাসরি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ডিজিটাল পেইন্টিংকে দেশে জনপ্রিয় করার এই প্রয়াসে তাকে স্বাগত।’

ডিজিটাল পেইন্টিং প্রসঙ্গে সৈয়দ আবুল বার্‌ক্‌ আলভি বলেন, ‘মাধ্যম বড় বিষয় নয়, শিল্পী কী সৃষ্টি করছেন সেটাই মুখ্য। ভবিষ্যতে শিল্পের মাধ্যম আরও বদলাবে। নতুন মাধ্যমে কাজ করার জন্য জিসান প্রশংসার দাবিদার।’

শিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, ‘ডিজিটাল পেইন্টিং বাংলাদেশে এখনও নতুন। জিসানের কাজ দেখে বোঝা যায় তিনি শিল্পে সিদ্ধহস্ত। ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় কাজ প্রত্যাশা করি।’

Nagad
Nagad

প্রদর্শনীতে ‘ডেলিকেট এলিগ্যান্স’, ‘ক্রিয়েশন উইদাউট ক্যাওস’, ‘রিফ্লেকশন অব লংগিং’, ‘এটারনাল ইকোস ইন ফ্রাগমেন্টেড লাইট’ শিরোনামের ডিজিটাল চিত্রকর্মগুলো গ্যালারির দেয়ালে সূক্ষ্ম সৌন্দর্য ও জীবনের বর্ণিল অনুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। জীবনের সুখ-দুঃখ, স্মৃতি ও বেদনা শিল্পী রূপান্তর করেছেন বিমূর্ত শিল্পভাষায়। শিল্পী জানান, প্রতিটি কাজের মাত্র একটি কপি প্রিন্ট করা হয় এবং পরে তা কম্পিউটার থেকেও মুছে ফেলা হয়, যাতে অনুলিপির সুযোগ না থাকে।

ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম জিসান হকের। ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ গ্রন্থে তাদের পরিবারের ইতিহাস উল্লেখ রয়েছে। পুরান ঢাকায় নূর বকস রোড, আবুল খায়রাত রোড, আবুল হাসনাত রোড ও নাবালক মিয়া লেন—এই চারটি সড়ক তাদের পরিবারের সদস্যদের নামেই পরিচিত। নাবালক মিয়া লেনে অবস্থিত তাদের বাড়িতে একসময় শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, কাজী নজরুল ইসলাম ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বরেণ্য ব্যক্তিরা যাতায়াত করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জিসান হক বলেন, ‘নিজের পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাতৃভূমিতে নিজের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করতে পেরে আমি গর্বিত।’ তিনি অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তার কানাডিয়ান স্বামী রিচার্ড পিজন এবং সন্তান কাইল, লুকাস ও জোসুয়াকে।

জন্মভূমি, পুরান ঢাকার স্মৃতি, প্রবাসজীবনের একাকিত্ব ও সংগ্রামের ছাপ জিসানের শিল্পকর্মে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজগুলো তিনি বহুদূরের দেশ থেকে নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের শিল্পরসিকদের জন্য।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আকারের মোট ২২টি ডিজিটাল চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে গ্যালারি। সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে খ্যাতিমান চিত্রকর মনিরুল ইসলামের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়নকর্মী নাশমিন নাহিদ।