Print

সারাদিন

একীভূত ইসলামী ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউজগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহন, december ২৮, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একীভূত হওয়া পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) ব্রোকারেজ হাউজগুলো পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ার পর তাদের সাবসিডিয়ারি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বিএসইসির একাধিক কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে কমিশনের আটজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর নামে ইস্যু করা স্টক-ব্রোকার, স্টক-ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার নিবন্ধন সনদ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নবায়ন করা হবে।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

এই ব্যাংকগুলোর কয়েকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিএসইসির নিবন্ধন বিভাগ থেকে স্টক-ব্রোকার, স্টক-ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পেয়ে পুঁজিবাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে এসআইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক-ব্রোকার ও স্টক-ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়নের আবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) হয়ে কমিশনে পাঠানো হয়। ডিএসইতে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক নম্বর ৯৪ এবং সিএসইতে ১৪২।

এ প্রেক্ষাপটে নিবন্ধন বিভাগ বিষয়টি কমিশনের গঠিত কমিটির কাছে মতামত ও সুপারিশের জন্য পাঠায়। পরে কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ পর্যালোচনা করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধ্যাদেশটি একীভূত হওয়া ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো বিএসইসিকে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো আইনগতভাবে বর্তমানে বহাল ও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

Nagad
Nagad

কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অধ্যাদেশের ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আওতাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কমিশনকে কিছু জানায়নি, তাই বিএসইসির পক্ষ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই।

কমিটি আরও মত দেয়, কেবল একীভূত হওয়ার কারণেই কোনো সাবসিডিয়ারি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ নবায়ন স্থগিত বা বাতিল করা যুক্তিসঙ্গত নয়। নিবন্ধন নবায়নের মূল বিবেচ্য হবে— প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন, বিধি-বিধান ও নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না।

নিবন্ধন নবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেন, বিও অ্যাকাউন্ট সেবা ও মার্জিন সুবিধাসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করে কমিশন।

সব দিক বিবেচনায় বিএসইসির কমিটি সুপারিশ করেছে, এসআইবিএল সিকিউরিটিজসহ একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর সব সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ আইন ও বিধি মেনে স্বাভাবিক নিয়মেই নবায়ন করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে একীভূতকরণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দিলে আইনগত মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, একীভূত হওয়ার কারণেই কোনো সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা বা নিবন্ধন নবায়ন না করা যৌক্তিক নয়। কমিশনের মূল লক্ষ্য পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।