প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহন, december ২৮, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
দেশের টেক্সটাইল খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। নানা সমস্যায় ইতোমধ্যে দেশের ৫০টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। এই সংকট থেকে উত্তরণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিটিএমএ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি। ‘স্পিনিং সেক্টরে দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যমান বহুবিধ সমস্যা ও তা থেকে উত্তরণে সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এই সভায় টেক্সটাইল খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই সংকট চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাত। ভারত থেকে কমপক্ষে ৩০ সেন্ট কম দামে সুতা ডাম্পিং করা হচ্ছে, যার ফলে দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। এরই মধ্যে ৫০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় দুই লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।
তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব মিলের প্রতিটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার কম নয়। একবার বন্ধ হয়ে গেলে এসব কারখানা পুনরায় চালু করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ গত ১৫ থেকে ২০ মাসে সরকার এই খাত নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, ‘আমার নিজের পাঁচটি কারখানার মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যদি এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে আগামী দিনে হয়তো টেক্সটাইলবিহীন একজন সভাপতি দেখবেন আপনারা।’ তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ করাও সহজ নয়—ব্যাংকের ঋণ পরিশোধসহ নানা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়।
সভায় তিনি জানান, গত ২০ মাসে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ, যা দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি। অথচ ভারত তিন ঘণ্টার মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও বাংলাদেশে একটি সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর লেগে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিনিং খাত বাঁচাতে জরুরি নীতি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত আসা দরকার। নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
মতবিনিময় সভায় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বর্তমান সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানান।