প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহন, december ২৮, ২০২৫
সারাদিন ডেস্ক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সদ্য কার্যক্রম শুরু করায় এই মুহূর্তে সীমিত পরিসরে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট হিসাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রচলিত হারে মুনাফা যোগ হতে থাকবে। ব্যাংক আর্থিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছালে ধাপে ধাপে বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, পৃথিবীর কোনো ব্যাংকের পক্ষেই একসঙ্গে সব আমানতকারীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। আধুনিক ব্যাংকিং কাঠামো ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইনের আওতায় একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে মুনাফা অর্জন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং নতুন আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সচ্ছল হবে। ব্যাংক যত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, তত দ্রুত আমানতকারীদের জন্য উত্তোলনের সীমা বাড়ানো সম্ভব হবে।
পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইসলামী ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী—একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপ নেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। আরিফ হোসেন খান বলেন, অধিগ্রহণ ও সম্পদ-দায় স্থানান্তরের মাধ্যমে পুরোনো ব্যাংকগুলো নতুন ব্যাংকে বিলীন হয়েছে, যা আইনগতভাবে বৈধ। এ কারণে গ্রাহকদের নতুন করে হিসাব খোলার প্রয়োজন নেই; পূর্ববর্তী সব হিসাব, ঋণ ও আমানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকে স্থানান্তরিত হবে।
দুই লাখ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা নিজ নিজ পুরোনো শাখায় গিয়ে বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করেই অর্থ তুলতে পারবেন বলে জানান তিনি। নতুন চেক বই ইস্যু সময়সাপেক্ষ হলেও এতে গ্রাহকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।
বড় অঙ্কের আমানত শেয়ারে রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক ধারণা পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক হবে।