Print

সারাদিন

এসটিসিকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ, ইয়েমেনের বন্দরে সৌদির হামলা

প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্, december ৩১, ২০২৫

সারাদিন ডেস্ক

ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগে দেশটির বন্দরনগরী মুকাল্লায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) চালানো এ হামলার পর রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, ইয়েমেনে আমিরাতের এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে দেখছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে দুটি জাহাজ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক যান খালাস করে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজগুলোর ক্রু ট্র্যাকিং ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করে গোপনে অস্ত্র নামায়। এসব অস্ত্রকে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আসন্ন হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই হামলার পর ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আমিরাত–সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত–সমর্থিত এসটিসি ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব–সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানালেও এসটিসি ও তাদের মিত্ররা আমিরাতের উপস্থিতির পক্ষে অবস্থান নেয়।

এদিকে, শুরুতে রিয়াদের অভিযোগ অস্বীকার করে সংযম ও প্রজ্ঞার আহ্বান জানায় আমিরাত। তবে পরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় ইয়েমেনে থাকা অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহারের সময়সূচি এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। এর আগেও কয়েক বছর আগে ইয়েমেন থেকে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করেছিল আমিরাত।

Nagad
Nagad

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ইয়েমেন–বিশেষজ্ঞ ও ‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, উভয় পক্ষই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে সৌদি আরব আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করায় আমিরাত থেকে এসটিসির কাছে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হয়ে আসতে পারে।

সাম্প্রতিক এই সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরব ও আমিরাত—উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এদিকে, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রথমবারের মতো এসটিসির সাম্প্রতিক অগ্রগতির জন্য সরাসরি আমিরাতকে দায়ী করে জানায়, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ তবে এসটিসির মিত্ররা জানিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না। সূত্র: এপি