প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহন, জানুয়রী ১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। কর্মঘণ্টায় কোনো বিচারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে, সেদিনই তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন হবে।
সম্প্রতি দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কোনো বিকল্প নেই। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে কঠোর মূল্য দিতে হবে।
বিচারকদের দ্রুত রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় বা আদেশ প্রদান করতে হবে। রায় দিতে অযথা বিলম্ব হলে মামলার নথি পুনরায় পর্যালোচনা করতে হয়, এতে সময় নষ্ট হয় এবং বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
অধস্তন আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণের পরিবেশ সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতের এজলাস কক্ষে আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। আদালত প্রাঙ্গণ বহিরাগত ও হকারমুক্ত রাখতে হবে। কোর্ট এলাকায় বাদাম, চা, ডাব বিক্রেতাসহ কোনো ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আইনজীবীদের ড্রেসকোড যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন। শপথগ্রহণের পরপরই অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে এই অভিভাষণ দেন তিনি।
বর্তমানে অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের নিয়মিত কর্মঘণ্টা নির্ধারিত রয়েছে।