Print

সারাদিন

জয়শঙ্করের সফর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যাবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহন, জানুয়রী ১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে ভবিষ্যতেই উত্তর খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। এ ছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও ঢাকায় আসেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন, তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে পুরো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এটিকে একটি ভালো জেসচার হিসেবে দেখা উচিত। এর বেশি কিছু খোঁজার প্রয়োজন নেই। এই সফরকে রাজনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে না দেখাই ভালো।

জয়শঙ্করের সঙ্গে কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা হয়নি, সে রকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা কূটনৈতিক রীতির অংশ।

তিনি আরও বলেন, যেটুকু কথা হয়েছে, সেটিও ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। দ্বিপাক্ষিক কোনো ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।

Nagad
Nagad

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, এর উত্তর ভবিষ্যতেই খুঁজে দেখতে হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন। দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান ছিল, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও স্বীকৃতি দেয়। সে কারণেই তার জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি স্বাভাবিক।