Print

সারাদিন

এক মাস আগেই রমজানের প্রভাব, চিনি চড়া দামে, সবজিতে স্বস্তি

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহন, জানুয়রী ২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র রমজান মাস আসতে এখনও এক মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগাম অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। রোজা ঘিরে দাম বাড়ার অভিযোগের মধ্যেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে একই সময়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিন পর তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, লাউসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। শাকজাতীয় সবজি আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে ফুলকপি প্রতিটি ৩০–৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০–৪৫ টাকা, লাউ ৪০–৬০ টাকা, শিম ৪০–৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ও মুলা পাওয়া যাচ্ছে ৩০–৪০ টাকায়। পালংশাক ও লালশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০–১৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “আগে ২০০–৩০০ টাকায় অল্প কয়েকটা সবজি নিতে হতো। এখন একই টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি পাওয়া যাচ্ছে। সংসারের খরচে অনেকটাই স্বস্তি এসেছে।”

সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। বাজারে কোরাল মাছ কেজিপ্রতি ৭০০–৯০০ টাকা, আইড় ৭০০–৮০০ টাকা, টেংরা ৬০০–৭০০ টাকা এবং সরপুঁটি ৩০০–৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Nagad
Nagad

শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০–৪০০ টাকায় নামলেও বড় চিংড়ির দাম ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ছোট চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০০–১২০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০–২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০–৩০০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, শীতকালে নদীতে মাছের সরবরাহ কম থাকায় আড়তে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।

ভোক্তারা বলছেন, রমজানের আগেই চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে যেন অযৌক্তিক বৃদ্ধি না হয়, সে বিষয়ে বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।