Print

সারাদিন

২০২১-২২ অর্থবছরের পর প্রথমবার ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহন, জানুয়রী ২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২১-২২ অর্থবছরের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী হিসাব করলে বর্তমানে দেশের নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এরপর করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের মে মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে আসে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে। তখন বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করে গত বছরের আগস্টের পর থেকে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকায় রিজার্ভ পুনরুদ্ধারের পথে ফিরে আসে।

টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে পূর্বে বাজারে ডলার বিক্রি করলেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক উল্টো ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা শুরু করে। ডলারের অতিরিক্ত দরপতন ঠেকাতে নেওয়া এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।

Nagad
Nagad

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকা এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় সতর্ক নীতির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।