প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)-এ গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন মামলার সাক্ষী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি গুম ও নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান। এদিন তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের জেরার জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১৮ ডিসেম্বর বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সেনা কর্মকর্তা এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
জবানবন্দিতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করা হয়। গুম অবস্থায় দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝার কোনো উপায় ছিল না। খাবার দেখেই তিনি দিনের হিসাব করতেন। সকালে রুটি দেওয়া হলে বুঝতেন নতুন দিন শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতে ভাতের সঙ্গে এক পিস মাছ বা মুরগি দেওয়া হতো। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন, সেদিন ঈদের দিন ছিল। তিনি আরও জানান, প্রথম দুই মাস দেয়ালে পেরেক দিয়ে দাগ কেটে দিনের হিসাব রাখতেন। পরে সেই হিসাব রাখা বন্ধ করেন। কক্ষের দেয়ালে আগে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের লেখা নানা বার্তা দেখতে পান, যার একটি ছিল-‘আপনাকে কত দিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।’
হুম্মাম বলেন, কক্ষটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। সেখানে তিনি নিজের ইনিশিয়াল (এইচকিউসি) ও গুম হওয়ার তারিখ দেয়ালে খোদাই করে রেখে যান।
সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন, গুম অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর করা হতো। তার বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্ন বারবার করা হতো।
এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনই বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা।